ট্রাম্পের শি-কে যতটা প্রয়োজন, শি-র ট্রাম্পকে ততটা প্রয়োজন নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে। এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং–এর বহুল আলোচিত এক শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন এ বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরলেও, চীন বরাবরের মতোই সতর্ক ও সংযত কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার করছে।
দুই পক্ষই এটিকে কোনো “ঐতিহাসিক সাফল্য” হিসেবে প্রচার না করে বরং বড় শক্তিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে পরিবর্তিত ক্ষমতার ভারসাম্যের ইঙ্গিত বহন করে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় বেইজিংয়ের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক এখনও নানা বিরোধে জর্জরিত। প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনও মুখোমুখি। ফলে একদিকে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেও, অন্যদিকে পারস্পরিক অবিশ্বাসও রয়ে গেছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির প্রশ্নে বেইজিং তুলনামূলক ধৈর্যশীল কৌশল গ্রহণ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
একই সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুও দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। চীন বরাবরই তাইওয়ান প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো কূটনৈতিক সমঝোতায় এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বেইজিংয়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন কৌশলগত প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্ব রাজনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে একক আধিপত্যের বদলে বহুমেরুকেন্দ্রিক শক্তির ভারসাম্য ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক, যার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া—সবখানেই পড়ছে।



