Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশঅপরাধআইন-বিচার

কক্সবাজারে শিশু ধর্ষণের আঠারো বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

বাংলা টিভি ডেস্ক: কক্সবাজারের চকরিয়ায় মেহেদী অনুষ্ঠান থেকে শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়, যা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। মামলা দায়েরের দেড় যুগ পর এই রায় ঘোষণা করা হলো।

 সোমবার (১১ মে) বিকেলে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইকবাল হোসেন (৪৩) চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তর পাড়ার ছৈয়দুল হক মেম্বারের ছেলে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই রাত ৯টার দিকে উত্তর খুটাখালীর গর্জনতলী এলাকার হাজী মমতাজ আহমদের ছেলে জয়নালের বিয়ের মেহেদী অনুষ্ঠান দেখতে যায় প্রতিবেশী সাত বছর বয়সী এক শিশু। এ সময় স্থানীয় মেম্বার ছৈয়দুল হকের ছেলে ইকবাল হোসেন শিশুটিকে তার মা ডাকছে বলে কৌশলে নিয়ে যায়। তাকে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিয়েবাড়ির পেছনে হলুদ খেতে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে ইকবাল। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ভিকটিমের মা ছেনোয়ারা বেগম মেয়েকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করান।

২৭ জুলাই ভিকটিমের মা বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় ইকবালের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওই বছরের ২১ অক্টোবর আসামি ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মেডিকেল রিপোর্টেও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছলিমুল মোস্তফা বলেন, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, ভিকটিমের ২২ ধারার জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং সাক্ষীদের জেরা-জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত আসামি ইকবাল হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় অভিযুক্তের বয়স ছিল ২৫ বছর; বর্তমানে তার বয়স ৪৩। অভিযুক্তের কাছ থেকে আদায়কৃত ৫০ হাজার টাকা ভিকটিমকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ে ভিকটিমের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

পেশকার মো. সালাউদ্দিনের সহযোগিতায় পরিচালিত আদালতে আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তাহসিন সাবজিল।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button