
বাংলা টিভি ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কুমারদিঘা হাওরে এবারের বোরো মৌসুমে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টির পানিতে হাওরের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ডুবে যাওয়ায় অনেক জমির ধান কাটা সম্ভব হয়নি, আর যেটুকু কাটা হয়েছে তার বড় অংশই পচে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষক নিরঞ্জন দাস জানান, তিনি এক একর ২৫ শতাংশ জমি বন্ধক নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। তবে অকাল বৃষ্টি ও পানি জমে যাওয়ায় তার পুরো ক্ষেতই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ধান কেটে আনতে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ লাগবে, কিন্তু বিক্রি করে সেই খরচও উঠবে না। ঋণের বোঝা ও সংসারের চিন্তায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
একই অবস্থা ঘাগড়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল মিয়ার। তিনি জানান, তার আবাদ করা জমির বড় অংশ এখনো পানির নিচে। যেসব ধান কাটা হয়েছে তারও অনেকটা গ্যাজ (অঙ্কুর) উঠে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, হাওরের প্রায় ৪০ শতাংশ জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে এবং কাটা ধানের বড় অংশই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ শোধ করা নিয়ে উদ্বেগে আছেন।
এদিকে, কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৭৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র আরও সংকটপূর্ণ বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
এ অবস্থায় হাওরের কৃষকরা সরকারি সহায়তা ও ঋণ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন।



