Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশঅপরাধ

ধর্ষণে মাদ্রাসা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা: হুমকির মুখে নিরাপত্তা চাইলেন সেই চিকিৎসক

বাংলা টিভি ডেস্ক: নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ‘শিক্ষকের ধর্ষণের ফলে’ ১১ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রথমে সামনে এনেছিলেন একজন নারী চিকিৎসক। শিশুটি ওই চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন।

সায়মা আক্তার নামের সরকারি ওই চিকিৎসক মদন উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখেন। সেখানে শিশুটির আলট্রাসনোগ্রাফি করে তিনি জানতে পারেন, সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তারপর তিনি নিজের ফেইসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি সামনে আনেন। তখনই সারাদেশে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

ঘটনাটি সামনে আনার পর থেকেই এক শ্রেণির মানুষ চিকিৎসক সায়মা আক্তারকে অনলাইনে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। নিজের ফেইসবুকে এসে ভিডিও বার্তা দিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি নিরাপত্তার জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তাও চান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে বুধবার সন্ধ্যায় সায়মা আক্তারের মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি ধরেন তার স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম।

তিনি তখন বলেন, “একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই তার স্ত্রী সাইবার বুলিংসহ নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়েছেন। এমনকি চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া এবং পেশাগত ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

আসিফুল বলেন, এরই মধ্যে হুমকির বিষয়টি তারা পারিবারিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব দপ্তরে অবহিত করেছেন। বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চিততা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার খাতিরে চিকিৎসক সায়মা আক্তার কোথায় আছেন সেটি জানাতে চাননি তার স্বামী আসিফুল। তবে, তিনি নিরাপদে আছেন।

মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, মদন উপজেলার হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে।

সাগর তার নিজের মাদ্রাসায় একটি শিশুকে বেশ কয়েকদিন ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের কাছে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে।

২৩ এপ্রিল থানায় সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। বাদীর অভিযোগ, টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা ও মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন সাগর।

মামলার পর থেকেই শিক্ষক সাগর মাদ্রাসা বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে সাগরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১৪। বিকালে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর মধ্যেই সোমবার গভীর রাতে লাইভে এসে এক শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে অনবরত হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেন শিশুটির চিকিৎসক সায়মা আক্তার।

এ সময় তিনি বলেন, তিনি শিশুটি ও তার মায়ের কাছ থেকে যা শোনেছেন এবং পরীক্ষা করে যা পেয়েছেন তা নিয়েই ভিডিও করে মানুষকে অবহিত করেছেন। এটা মানুষকে জানানোর কারণে তাকে এখন জীবনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমার জীবনের হুমকি তো আছেই। বলা হচ্ছে, আমাকে রেপ করে মেরে ফেলা হবে। মব সৃষ্টি করা হবে। আমাকে যেখানেই পাবে রাস্তায় কুপিয়ে মেরে ফেলা হবে। এই জাতীয় থ্রেটগুলো আমি পাচ্ছি।”

২০২২ সালে পাঁচহার গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক সাগরের স্ত্রী।

শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। শিশুটি তার নানীর কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button