
বাংলা টিভি ডেস্ক: ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সেখানে না পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, না মেলে ওষুধ।
গৃহবধূ লিমা খাতুন (৩৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসুস্থ হয়ে ক্লিনিকে গেলে ডাক্তার থাকেন না, আর ওষুধও মেলে না। শুধু ওরস্যালাইন আর আয়রনের ট্যাবলেট দিয়েই রোগীদের ফেরত পাঠানো হয়। তার প্রশ্ন—এভাবে একটি ক্লিনিক থেকে গ্রামের মানুষের কী উপকার হচ্ছে?
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার জানান, গ্রামের অনেক নারী পরিবার পরিকল্পনার জন্য ক্লিনিকে যান। কিন্তু সেখানে সুখী ট্যাবলেট, কনডম বা ইনজেকশনের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্টের পর থেকে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ২২ ধরনের ওষুধ পাওয়া যেত, এখন সেখানে সীমিত কিছু যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, অল্প কিছু মলম ও ওরস্যালাইন ছাড়া কিছুই নেই। ফলে প্রতিদিনই রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। চাহিদা পাঠানো হলেও এখনও সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, বর্তমানে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের পর থেকেই নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ওষুধের সংকট নয়, গত কয়েক মাস ধরে কর্মচারীরাও বেতন পাচ্ছেন না, যা পুরো সেবাব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।



