
বাংলা টিভি ডেস্ক: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা-র করগাঁও ইউনিয়নের তাড়ানগাঁও গ্রামের কৃষাণী সন্ধ্যা রানী দাশ এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টানা বৃষ্টিতে তার প্রায় ১০ কিয়ার পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা ছিল তার পরিবারের একমাত্র সম্বল।
তিনি এনজিও রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এবং ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের আওতায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বর্গা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর পরিশ্রমে ফলানো সেই ফসল ঘরে তোলার আগেই হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে সব ডুবে যায়।
এ পরিস্থিতি শুধু তার একার নয়—নবীগঞ্জের হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকই একই সংকটে পড়েছেন। কোথাও পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও কাটা ধান বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে এক মৌসুমের ফসল হারিয়ে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে প্রায় ১৮ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং আরও প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শেখ ফজলুল হক মনি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, জানান—ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং দ্রুত তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।



