
চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। একটি গ্রাফিতি বিকৃতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়, যার ফলে ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং কড়া তল্লাশির কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘটনার প্রভাব চট্টগ্রামের বাইরে দেশজুড়েও ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্তপ্ত আলোচনা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে, যদিও এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের সময় কঠোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে ক্লাস পুনরায় চালু হতে পারে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে ২০ এপ্রিল, যখন ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা একটি গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লেখা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরদিন দুই পক্ষ প্রথমে ক্যাম্পাসে, পরে নিউমার্কেট এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনের পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনাও সামনে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সঙ্গে বহিরাগতরাও যুক্ত হয় এবং ধারালো অস্ত্রসহ কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এতে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ঘটনার জেরে সারাদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের ভিডিও বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।



