ট্রাম্প–নেতানিয়াহুর প্রেম কি বিচ্ছেদের পথে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েল-এর অবস্থান কি বদলে যাচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। একসময় আমেরিকানদের চোখে ইসরায়েল ছিল দুর্বল কিন্তু সাহসী ‘ডেভিড’, আর আরব বিশ্ব ছিল শক্তিশালী ‘গোলিয়াথ’। তবে সেই ধারণা এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান এখন ইসরায়েলকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। তরুণদের একটি বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তনও এই মনোভাব বদলের একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসময় শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ইয়িৎসহাক রবিন-এর হত্যার পর দেশটি ধীরে ধীরে ডানপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সময় সেই প্রবণতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কেও নতুন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও, অতীতে বারাক ওবামা-এর করা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পকে সেখান থেকে সরে আসতে উৎসাহিত করেছিলেন। এখন যদি নতুন কোনো চুক্তি হয়, তাতে ইসরায়েলের আপত্তি থাকাটা প্রায় নিশ্চিত।
এদিকে মার্কিন রাজনীতির ভেতরেও পরিবর্তন স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশ এখন ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আপত্তি তুলছে। এমনকি প্রভাবশালী লবি AIPAC থেকেও দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
রাম ইমানুয়েল-এর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও ইসরায়েলকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার কথা বলছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করলে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জনমত ও রাজনৈতিক অবস্থানে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন-তেলআবিব সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আগের মতো নিঃশর্ত সমর্থনের জায়গাটি ধীরে ধীরে শর্তসাপেক্ষ হয়ে উঠছে—এমনটাই এখন স্পষ্ট হচ্ছে।



