স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংবাদপত্রের সম্পাদক ও মালিকদের বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন এক প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে গণমাধ্যম অঙ্গনে। বৈঠক শেষে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে—প্রতি তিন মাস অন্তর—সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব কমানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও প্রকাশকরা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম এবং এ কে আজাদ উল্লেখযোগ্য। আলোচনায় উঠে আসে দেশের সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান সংকট, বিশেষ করে অর্থনৈতিক চাপ, যা এই খাতের টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেন এবং গণমাধ্যমের আর্থিক সংকট ও সরকারের বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেন। তিনি জানান, বিষয়গুলো বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও হয়রানির বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কোনো গণমাধ্যমকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে দেখতে চান না। এই অবস্থানকে অনেকেই একটি উদার গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠক শুধু তাৎক্ষণিক কিছু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভবিষ্যতে সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের একটি নতুন ধারার সূচনা হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে সংবাদপত্র শিল্পের নানা সমস্যার সমাধান এবং একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



