ইরান থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধার কঠিন হবে: ট্রাম্প

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা সহজ হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এটি হবে “দীর্ঘ এবং কঠিন” একটি প্রক্রিয়া।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ইরান-এর পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, গত জুনে পরিচালিত অপারেশন মিডনাইট হ্যামার-এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষায়, এখন সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় উপাদান উদ্ধার করতে হলে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে বের করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ।
তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যম The Guardian-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় বড় ধরনের ক্ষতি হলেও সব স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। বিশেষ করে ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ এলাকার ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো অক্ষত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান Maxar Technologies-এর ছবিতেও আংশিক ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নিজের পোস্টে ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যম, বিশেষ করে CNN-এর সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, এসব গণমাধ্যম অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলটদের যথাযথ স্বীকৃতি দিচ্ছে না এবং ঘটনাটিকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান নাকি এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়েছে—যদিও ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবি অস্বীকার করেছে।
এই অমীমাংসিত ইস্যুটি দুই দেশের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন চায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে, অন্যদিকে তেহরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবস্থানে অনড়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।



