Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশঅন্যান্য

জুতাপেটার ভিডিও ভাইরাল, নিজেকে শেষ করে দিলেন গৃহবধূ

বাংলা টিভি ডেস্ক: মানিকগঞ্জের শিবালয়ে প্রেমের সন্দেহে গ্রাম্য সালিসে বিচারে নাজা আক্তার (২৫) নামের এক সন্তানের জননীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় চরম অপমান, ভয় ও লজ্জায় পরের দিনই ওই নারী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলার উত্তর কাশাদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিবালয় থানা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মৃতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখের দিনে স্থানীয় জাকির নামের যুবকের সঙ্গে বেড়াতে যান নাজমা। পরে গত শুক্রবার রাতে নাজমার বাবার বাড়িতে ওই যুবককে নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বসে গ্রামের লোকজন। কোনো সমাধানের আগেই নাজমা ও জাকির হোসেনকে বিচারকদের নির্দেশে জুতা দিয়ে পেটানো হয়।

এ সময় আরও কয়েকজন তাদের চড়, লাথি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। মারধরের ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় একজন। ঘটনার পরের দিন পার্শ্ববর্তী চায়না তালা ফ্যাক্টরি থেকে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে নাজমাকে গ্রামের কয়েকজন বলে— আজকে আবারও তোকে বিচার বসিয়ে হাড়গোড় ভেঙে ফেলা হবে।
পরে বাড়ি ফিরেই নাজমা গোসল করে ভেজা কাপড়েই ঘরের আড়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। ওই গ্রাম্য সালিসে বিচারের দায়িত্বে গ্রামের আজিজুজ, সফিউল ও নান্নু নামের তিনজন এ সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন নিহতের বাবা।

মৃতের স্বজনরা বলেন, আমার মেয়ের আত্মহত্যার জন্য এলাকার মাতুব্বর ও এলাকার ছেলেরা দায়ী। তারা আমার মেয়েকে মারধর না করে বুঝিয়ে বললে এ রকম ঘটনা ঘটত না। বিচারে মেয়েটাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আবারও বিচার বসিয়ে মারধরের হুমকিও দিয়েছিল। জাকিরের সঙ্গে নাজমার কোনো অবৈধ সম্পর্ক তারা প্রমাণ করতে পারেনি।

শিবালয় থানার এসআই সুমন চক্রবর্তী জানান, নাজমা নামের একজন নারী আত্মহত্যা করেছে এমন সংবাদে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে তদন্তে উঠে আসে, মেয়েটির সঙ্গে বিচারের নামে নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় আমিও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই এলাকায় দুইজন বিচারের মাতুব্বরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button