সব রাজনীতিবিদ–কর্মকর্তাদের সম্পদ তদন্ত করবে নেপাল সরকার

নেপালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে নতুন সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর নেতৃত্বে দেশটির মন্ত্রিসভা সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত প্যানেল গঠন করেছে। মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
এই সিদ্ধান্ত আসে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বিপুল জয় পায় এবং এর মাধ্যমেই বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন, যা তাকে তরুণ ভোটারদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তোলে।
নতুন গঠিত পাঁচ সদস্যের এই প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভাণ্ডারি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো প্যানেলের সুপারিশ বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। যদিও তদন্ত শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালে নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্তি-র পর থেকে যেসব ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে ছিলেন, তাদের অনেকেই এই তদন্তের আওতায় আসতে পারেন। ফলে এটি নেপালের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।



