‘ইউক্রেনকে আর বিনামূল্যে অ/স্ত্র দেবে না যুক্তরাষ্ট্র’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর ব্যাপক হামলা ও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। গত এক দিনে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে দুই শতাধিকবার সরাসরি সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রভস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং অন্যান্য কয়েকটি অঞ্চলে রুশ বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বিশেষ করে ওডেসা বন্দরসহ অন্তত নয়টি স্থানে রাতভর তিন শতাধিক ড্রোন হামলার ফলে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। কিয়েভের দাবি অনুযায়ী, গত এক দিনে রুশ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা হতাহত হয়েছে এবং তাদের বহু সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, তারা বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও রকেট সিস্টেম ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এসব প্রতিরোধ সত্ত্বেও রাশিয়া দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক বক্তব্য ও উত্তেজনা আরও বাড়ছে। চীন সফরে গিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো কিয়েভকে কেন্দ্র করে নতুন একটি সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যা রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপে শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের যে পরিকল্পনা চলছে, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহে মার্কিন করদাতাদের অর্থ আর ব্যয় করা হবে না। তবে ইউরোপ চাইলে নিজেদের অর্থে অস্ত্র কিনে কিয়েভকে সহায়তা করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সব মিলিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু সামরিক সংঘর্ষেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জোট ও বৈশ্বিক কূটনীতির টানাপোড়েনে আরও জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি।



