
গুমের প্রায় সাত বছর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাখা কক্ষেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা স্থাপন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরায় তিনি এ তথ্য দেন। বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
জেরার সময় আযমী বলেন, তাকে ২১ ফুট বাই ১৭ ফুট আকারের একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে রাখা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৬ জুন তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দুই দিন পর, ৮ জুন চিকিৎসকের পরামর্শে কক্ষে এসি স্থাপন করা হয়। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় এসিবিহীন অবস্থায় ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাকে বারবার বলা হতো, “আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”
আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুর জেরায় তিনি জানান, চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেছিলেন, তবে তা পরে খারিজ হয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, গুম থেকে মুক্তির পর ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে জবানবন্দি দেন।
আযমী আরও বলেন, গুমের ঘটনায় তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। যদিও আসামিপক্ষ এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেয়।
তিনি চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতায় ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টের ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেড এবং রংপুরের ১৬ পদাতিক ব্রিগেডে দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেন।
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন। শুনানি শেষ না হওয়ায় পরবর্তী তারিখে কার্যক্রম মুলতবি করা হয়েছে।



