
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমানে নকলের ধরনও বদলে গেছে—আগের মতো নয়, এখন তা “ডিজিটাল ভেরিয়েন্ট”-এ রূপ নিয়েছে। তার ভাষায়, নকলের এই নতুন রূপ যেন করোনার ভেরিয়েন্টের মতোই বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষ্যে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি নকলের দিকে ঝোঁকে, তবে সেটিকে শুধু তাদের দুর্বলতা হিসেবে না দেখে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। কেন শিক্ষার্থীরা নকল করতে বাধ্য হচ্ছে, তা খুঁজে সমাধানের পথ বের করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে অযথা পুনরাবৃত্তি ও জটিলতা কমাতে হবে। তার ভাষায়, “এক মুরগি তিনবার জবাই করা যাবে না”—অর্থাৎ একই শিক্ষার্থীকে বারবার একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না এনে সহজ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতকে শুধু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় তিনি আরও বলেন, তিনি সমালোচনা ও ট্রলকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন এবং সংসদে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত আছেন, কারণ জবাবদিহিতা ছাড়া শিক্ষা খাতে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সভায় উপস্থিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক ও মানসম্মত করতে রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি। তিনি নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোনোর আহ্বান জানান।
সভায় বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পুরো সভায় এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্তভাবে আয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।



