
জ্বালানি সংকটের চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় অর্ধশত যানবাহনের বহর নিয়ে শোডাউন করার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার বিকেলে উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামানিক প্রায় ৫০টি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। বহরে অন্তত চারশ’ নেতাকর্মী অংশ নেন এবং পরে এটি পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পুরো ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজের অবস্থান জানান দিতেই এই শোডাউনের আয়োজন করা হয়। তবে জ্বালানি সাশ্রয়ের সময় এমন ব্যয়বহুল ও জ্বালানি-নির্ভর শোডাউন করায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। গাড়ি বহর ও বিপুল সংখ্যক সমর্থকের আপ্যায়নের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠে।
এক স্থানীয় পরিবহন সমিতির সদস্যদের বরাতে জানা যায়, প্রতিটি যানবাহনের ভাড়া আনুমানিক ৫ হাজার টাকা ধরলে শুধুমাত্র গাড়ি ব্যবহারের খরচই দাঁড়ায় প্রায় আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি সোমবার তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গির আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অব্যাহতি পাওয়া মাসুদ রানা পরে দাবি করেন, শোডাউনে ব্যবহৃত অধিকাংশ গাড়ি ছিল সিএনজি ও এলপিজিচালিত। তবে ব্যয়ের উৎস নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জ্বালানি সংকটের মতো সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের শোডাউন জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



