ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট নিজার, নির্বাচিত হয়েই ইরানে মার্কিন হামলার নিন্দা

ইরাকের পার্লামেন্ট নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজার আমেদিকে নির্বাচিত করেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে, যা সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রায় স্থবির করে রেখেছিল বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত প্রার্থী আমেদি দ্বিতীয় দফা ভোটে ২২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসান্না আমিন নাদেরকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন, যিনি মাত্র ১৫ ভোট পান। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর তিনি ইরাকের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হলেন।
জয়ের পর সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আমেদি বলেন, দেশ যে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। তিনি সরকারের সব শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ‘ইরাক ফার্স্ট’ নীতিতে অটল থাকার কথা জানান। তিনি সাম্প্রতিক সংঘাত ও হামলারও নিন্দা করেন।
এই নির্বাচন এমন সময় হলো যখন ইরাক আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব সামলে উঠার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক শক্তির সংঘর্ষের প্রভাব দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
২০০৩ সালের পর থেকে ইরাকে প্রচলিত ক্ষমতা ভাগাভাগি ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট হন কুর্দি, প্রধানমন্ত্রী হন শিয়া মুসলিম এবং পার্লামেন্ট স্পিকার হন সুন্নি মুসলিম।
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও দলীয় বিরোধের কারণে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বারবার পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের সমঝোতার মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্ট এখন ১৫ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংসদীয় জোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন এবং মনোনীত প্রধানমন্ত্রীকে ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে।
৫৮ বছর বয়সী আমেদি দীর্ঘদিন ধরে ইরাকি প্রশাসন ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আগে পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।



