৪৮ বছর পর এক টেবিলে বসছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, গোটা বিশ্বের নজর পাকিস্তানে

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এখন পাকিস্তানের ইসলামাবাদকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে, যেখানে দুই পক্ষের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সংঘাতের পর এই আলোচনার দিকে অগ্রসর হওয়া এক ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক প্রতিরোধ, অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখার অবস্থান পরিস্থিতিকে নতুন দিকে নিয়ে গেছে।
যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া ও কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর হিসাব-নিকাশেও পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী–তে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বজায় রাখার বিষয়টি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে বলে বিশ্লেষকদের মত। ইউরোপীয় মিত্রদের সরাসরি সামরিকভাবে পাশে না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ জাতীয় ঐক্য ও সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থনও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলেও দেশটির অবস্থান স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সামরিক সংঘাতের পর এবার কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা বৈঠকের ফলাফলই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



