
দেশব্যাপী ভোজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী অসাধু মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে সারাদেশে ২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৫ লিটার ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মজুদ শনাক্ত করা হয়। এ সময় মোট ৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, ফেনী জেলার ইসলাম রোড এলাকায় অবৈধভাবে ভোজ্য তেল মজুদের দায়ে একটি গুদামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিনে ঢাকার পল্টন, শান্তিনগর, নয়াপল্টন, ভাষানীগলি ও পুরানা পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মজুদ না করা এবং বেশি দামে তেল বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যশোরের কোতোয়ালি থানায় মেসার্স নওয়াব মিলকে ১৬ হাজার ৫২৪ লিটার সয়াবিন তেল অবৈধভাবে মজুদের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রংপুরে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মূল্যবৃদ্ধি ও অবৈধ মজুদদারির দায়ে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাভার, পল্লবী, শাহ আলী ও কক্সবাজারে পরিচালিত অভিযানে তেলের মজুদে বড় ধরনের অনিয়ম না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
শ্যামপুরের জুরাইন বাজারে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭০৫ বস্তা চাল ও ৫০০ বস্তা আটা অবৈধভাবে মজুদের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়। জব্দকৃত এসব পণ্য খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকায় ৮ হাজার ৫০০ লিটার ভোজ্য তেল অবৈধভাবে মজুদের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নরসিংদী সদরে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাস দমনসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।



