Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

মোটরসাইকেল বাজারে ধস, অফারেও মিলছে না ক্রেতা

বাংলা টিভি ডেস্ক: গাইবান্ধায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল ব্যবসায়। বাজারে তেলের তীব্র সংকটের কারণে নতুন মোটরসাইকেল বিক্রিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। শোরুমগুলোতে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়, উপহার ও ক্যাশব্যাক অফার ঘোষণা করেও ক্রেতাদের সাড়া পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে জেলাজুড়ে মোটরসাইকেল কেনাবেচা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো জ্বালানি তেল মিলছে না। এই অনিশ্চয়তার কারণে সাধারণ মানুষ নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মোটরসাইকেল বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। সোমবার দুপুরে জেলা শহরের হিরো, বাজাজ ও টিভিএস কোম্পানির শোরুমগুলো ক্রেতাশূন্য দেখা যায়। শোরুমের ম্যানেজার ও কর্মীরা অলস সময় পার করছেন।

গাইবান্ধা ডিবি রোড এলাকার ‘বাজাজ প্যালেস রুম্পামনি অটোবিতান’-এর স্বত্বাধিকারী রনজু মিয়া বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে শোরুমে ক্রেতা নেই। হিরো, টিভিএস, ইয়ামাহা বা সুজুকি—সব ব্র্যান্ডের শোরুমের একই অবস্থা। আমরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি।”

বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে বিভিন্ন মডেলে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার চলছে। তবুও কাঙ্ক্ষিত বিক্রয় হচ্ছে না। টিভিএস শোরুমের ম্যানেজার জানান, “জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হলে ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামবে। এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা জরুরি।”

এদিকে তেলের সংকটে মোটরসাইকেল চলাচল কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মেকানিক ও ওয়ার্কশপ মালিকরা। শহরের রেলগেট এলাকার ওয়ার্কশপ মালিক রুবেল মিয়া ও টেকনিশিয়ান রেজাউল জানান, বাইক কম চলায় সার্ভিসিং করতে আসা গ্রাহকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এতে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অন্যদিকে, পাম্প থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কড়াকড়ি আরোপের প্রভাব পড়েছে বিআরটিএ অফিসে। এখন থেকে তেল নিতে হলে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে বিআরটিএ অফিসে নিবন্ধনের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বিআরটিএ গাইবান্ধার সহকারী পরিচালক মো. কামাল হোসেন জানান, “রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পাম্প থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে না বিধায় গত মাসের তুলনায় মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। মার্চ মাসে যেখানে প্রায় ৪০০টি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, সেখানে ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে এর সংখ্যা ছিল অনেক কম।”

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button