Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
স্বাস্থ্যবাংলাদেশ

রামেকে হাম উপসর্গে আরও এক শি/শু/র মৃ/ত্যু, নতুন রোগী ২২

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম রোগের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১৭ শিশু চিকিৎসাধীন।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এই তথ্য জানান। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই শিশুর সংক্রামক হাম রোগের উপসর্গ ছিল।

এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে ১৪ শিশু হাসপাতাল ছাড়েছে। এ পর্যন্ত হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাম কেবল সাধারণ সর্দি-জ্বর নয়; এটি অত্যন্ত সংক্রামক একটি বায়ুবাহিত ভাইরাস। এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, এমনকি ইবোলা ভাইরাসের চেয়েও দ্রুত ছড়ায়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হামের ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশ অ্যান্টিবডি নষ্ট করতে পারে। ফলে শিশু পরবর্তীতে নিউমোনিয়া বা ফ্লুর মতো সাধারণ রোগেও মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হতে পারে।

হামের অন্যান্য জটিলতার মধ্যে আছে মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনকেফেলাইটিস), যা শ্রবণশক্তি হারানো, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা এবং চোখের প্রদাহের কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত হলে গর্ভপাত বা কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি থাকে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (আইপিএইচ) পরিচালক ডা. মো. মোমিনুর রহমান জানান, হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণ হলো টিকাদান ঠিকমতো না হওয়া। নিয়মিত টিকাদান ছাড়াও পাঁচ বছর অন্তর ক্যাম্পেইন করা হয়, সর্বশেষ ২০২০ সালে। ২০২৪ সালে হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এছাড়া টিকার সংকট এবং ক্রয়জনিত কারণে কয়েক বছর ধরে টিকাদান বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে অনেক শিশু প্রথম ডোজ পেয়েও দ্বিতীয় ডোজ পাননি।

গত তিন মাসে তাদের ল্যাবে হামের ১,৬৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়; এর মধ্যে ৬৯৬ জনে হাম শনাক্ত হয়, যা ৪২.৪১%।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় টিকাসংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি (নাইট্যাগ) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রুটিন টিকাদানের পাশাপাশি ক্যাম্পেইন চালানো হবে। জুনের মধ্যে ক্যাম্পেইন শুরু করতে শিশুদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। টিকা প্রদানের বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে এবং বয়সসীমা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে।

ডা. আবু হোসেন মোহাম্মাদ মইনুল আহসান জানিয়েছেন, হাম নিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব ক্যাম্পেইন শুরু এবং চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button