ফিলিস্তিনিদের জন্য ৭২ বছর পর মৃ/ত্যু/দ/ণ্ড ফেরাল ই/স/রা/য়ে/ল

ইসরায়েলে নতুন একটি আইন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেট ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে কার্যত একটি ‘ডিফল্ট’ সাজা হিসেবে নির্ধারণ করে আইন পাস করেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার ৬২-৪৮ ভোটে পাস হওয়া এই আইনের পক্ষে অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সমর্থিত ডানপন্থী জোটের সদস্যরা। যদিও বিরোধীদলীয় কিছু সদস্য এর তীব্র বিরোধিতা করেন।
আইনের মূল দিক
আইনটি মূলত পশ্চিম তীর অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ফিলিস্তিনি ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থেকে প্রাণহানির জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে এই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
বৈষম্যের অভিযোগ
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, একই অপরাধের জন্য ইহুদি ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল বলেছে, এই আইন কাঠামোগতভাবে একটি দ্বৈত বিচারব্যবস্থা তৈরি করছে, যা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
পার্লামেন্টে বিতর্ক চলাকালে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বিরোধী রাজনীতিক রাম বেন বারাক বলেন, “একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের জন্য আলাদা আইন আমাদের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
শাস্তি ও ইতিহাস
নতুন আইনে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হয়েছে, যা দণ্ড ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে কার্যকর করার বিধান রয়েছে। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ১৯৫৪ সালে সাধারণ খুনের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছিল। ১৯৬২ সালে অ্যাডলফ আইখম্যান-এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আর কাউকে এ শাস্তি দেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ-এর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদ’ সংজ্ঞার অস্পষ্টতার কারণে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধেও এই আইন প্রয়োগের ঝুঁকি রয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ—ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি—এটিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে।
এছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আইনটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রতিক্রিয়া ও আইনি চ্যালেঞ্জ
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই আইনকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট-এ এই আইনের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে। তাদের দাবি, এটি দেশের মৌলিক আইন লঙ্ঘন করে এবং বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন গভির এই আইনকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করে সমর্থন জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, এই আইন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



