Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
আন্তর্জাতিকএশিয়ামধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাষ্ট্র

ইরানের স্কুলে নতুন ক্ষে/প/ণা/স্ত্র মারল যুক্তরাষ্ট্র, নি/হ/ত অন্তত ২১

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের এক অন্ধকার ও উদ্বেগজনক দিক সামনে এসেছে সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর তথ্যমতে, দক্ষিণ ইরানে একটি স্পোর্টস হল ও একটি স্কুলে মার্কিন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কিশোরী খেলোয়াড়ও ছিল।

রহস্যময় ‘PrSM’ কী?

‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ বা PrSM হলো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সারফেস-টু-সারফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস চুক্তি বাতিল-এর কিছুদিন পরই সামনে আসে। আগে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পুরোনো ATACMS-এর বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে ATACMS প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে পারত, সেখানে PrSM ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে সক্ষম।

বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, হামলাটি একটি জনবহুল এলাকায় ঘটে। একটি স্পোর্টস হলে কিশোরীরা ভলিবল অনুশীলনের সময় বিস্ফোরণ ঘটে, যা ব্যাপক হতাহতের কারণ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণে ক্ষেপণাস্ত্রটির সঙ্গে লকহিড মার্টিন-এর তৈরি PrSM-এর মিল পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় স্কুল ও খেলার মাঠের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

উৎপাদন ও ব্যবহার

ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করছে লকহিড মার্টিন। ইতোমধ্যে এর প্রথম ব্যাচ মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছেছে। পেন্টাগন এই অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

মার্কিন বাহিনীর HIMARS ও M270 MLRS থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েত ও বাহরাইনে মোতায়েন ইউনিটগুলো থেকেই হামলা চালানো হয়েছে।

কৌশলগত গুরুত্ব

পেন্টাগনের মতে, PrSM ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলে বড় পরিবর্তন আনবে। এটি শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ভবিষ্যতে এর এমন সংস্করণ তৈরি করা হতে পারে, যা চলমান জাহাজ বা মোবাইল টার্গেটেও আঘাত করতে সক্ষম হবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বেসামরিক স্থাপনায় এই ধরনের উন্নত ও পরীক্ষামূলক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনেক বিশেষজ্ঞই ‘অনৈতিক ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যে তেহরান সরকার এই হামলার প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-এ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু প্রাণহানির দিক থেকেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন, যুদ্ধনীতির নৈতিকতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button