ইরান যু/দ্ধে হুথিদের প্রবেশ, যে ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে বিশ্ব

ইরান-ইসরাইল সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি শুধু ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালিয়েই থেমে থাকবে না—বরং তারা লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দাব প্রণালি অবরুদ্ধ করার মতো কৌশলগত পদক্ষেপও নিতে পারে। অন্যদিকে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ভয়াবহ সংকটে পড়বে।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রাখা হুথিরা এতদিন সরাসরি এই সংঘাতে অংশ নেয়নি। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ইসরাইল লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি ইরানের বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যেখানে আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে পড়তে শুরু করেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করছে, ফলে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ছে। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, হুথিদের এই পদক্ষেপের পেছনে নিজস্ব স্বার্থও রয়েছে। তারা ইয়েমেনের ভেতরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে দরকষাকষির সুযোগ বাড়াতে আগ্রহী।
পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করেছেন, এই উত্তেজনা ইয়েমেনকে আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।



