যুক্তরাষ্ট্র স্থল হা/ম/লা চালালে আমিরাতকে তছনছ করে দেব: ইরান

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান। দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল হামলা চালায় এবং সেটি আমিরাত থেকে পরিচালিত হয়, তাহলে আমিরাতকে সরাসরি ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর পাল্টা হামলা চালানো হবে।
সংবাদমাধ্যম Middle East Eye–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব হুঁশিয়ারি দেন তারা।
গত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা ২০২৬–এর পর এক মাসের বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে। এরই মধ্যে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থল হামলার লক্ষ্য হিসেবে খার্গ দ্বীপ–কে বেছে নিতে পারে, যেখান থেকে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেন, আমিরাত শুধু মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগই দিচ্ছে না, বরং আরও গভীরভাবে সহযোগিতা করছে। তাদের মতে, ইরানের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আমিরাত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বা সামরিক সক্ষমতার কিছু অংশও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের জন্য দিয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা জানান, রাশিয়া থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন সূত্রে তারা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থল হামলা খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে এবং তা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকেই পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, এতদিন ইরান সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামোতে হামলা না চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। তবে ভবিষ্যতে যদি আমিরাত থেকে হামলা চালানো হয়, তাহলে কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং সরকারি বেসামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের বার্তা ইতোমধ্যে আমিরাতকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



