কারবালার প্রান্তরে ঈদের জামাতে ইরান যু/দ্ধের নিন্দা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইরাকের পবিত্র শহর কারবালা-তে হাজার হাজার শিয়া মুসলিম সমবেত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শনিবার (২১ মার্চ) সকালে এই জামাত অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। তবে উৎসবের দিনে যুদ্ধের ছায়া ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ক্ষোভকে ম্লান করতে পারেনি।
নামাজের ইমাম শেখ আহমদ আল-সাফি তাঁর খুতবায় ইরান ও লেবানন-এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-এর ভয়াবহ সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রাণঘাতী বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের সহায়তায় বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কারবালার ইমাম হোসেন এবং আবু ফজল আল-আব্বাসের পবিত্র মাজারের মধ্যবর্তী প্রধান স্থান ‘বাইন আল-হারামাইন’ প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রের দ্বারা পূর্ণ। শিয়া মুসলমানদের কাছে এই ধর্মীয় স্থানটি যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরাকি ও ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, খুতবায় শেখ আল-সাফি বর্তমান সংঘাতকে নিরপরাধ মানুষের ওপর এক পৈশাচিক আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যে রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
কারবালার এই বিশাল জমায়েত শুধুই ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদেও রূপ নিয়েছে। বর্তমান মানবিক বিপর্যয় ও সীমান্ত অঞ্চলের উত্তেজনার মাঝে এই জনসমাগম প্রমাণ করে, ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক সংহতি এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কতটা গভীর।
কারবালার পবিত্র ভূমি থেকে দেওয়া এই নিন্দা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ডাক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রার্থনা সভার মাধ্যমে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায় মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রার্থনা করেছেন।



