
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানো এবং সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
রায় প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২, যা বিস্তারিতভাবে অভিযোগ, প্রমাণ এবং শাস্তি নির্ধারণের যুক্তি তুলে ধরেছে। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুতর হলেও প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর আসামিরা মূল পরিকল্পনাকারী বা চূড়ান্ত রাজনৈতিক উৎস। তাদের দায় মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে অপারেশন পরিচালনায় সহায়তা করার সীমিত অংশে এসেছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় যথাযথ প্রমাণ না থাকার কারণে সাজা কমানো হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা:
* ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
* আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি
* স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া
* আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক
* সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা
* কনস্টেবল মুকুল চোকদার
জাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা:
* ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম
* সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন
* ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী
* সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম
* সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদুর রহমান
* ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন
* সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস
সাত বছরের সাজা পেয়েছেন:
* এসআই আরাফাত উদ্দিন
* এএসআই কামরুল হাসান
খালাস পেয়েছেন সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক, যিনি এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, মো. শাহিদুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।



