মেয়র মামদানির বাসভবনের সামনে ভয়াবহ বো/মা হা/ম/লা

নিউইয়র্ক শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি-র সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনের সামনে ভয়াবহ বোমা হামলার চেষ্টা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৭ মার্চ) দুই বিপরীতমুখী বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীর সংঘর্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এক বিক্ষোভকারী সেখানে হাতে তৈরি শক্তিশালী বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ রোববার (৮ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, উদ্ধার হওয়া ডিভাইসটি কোনো সাধারণ স্মোক বোমা ছিল না। এটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ‘টিএটিপি’ বিস্ফোরক দিয়ে তৈরি একটি সক্রিয় বোমা। বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ানোর জন্য এতে নাট-বল্টু, স্ক্রু এবং ধাতব টুকরো ভরা ছিল।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ১৮ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী জ্বলন্ত অবস্থায় বিস্ফোরকটি পুলিশের ব্যারিকেডের দিকে ছুড়ে দেয়। পরে সে আরেকটি ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে এবং তার ১৯ বছর বয়সী এক সহযোগীকে আটক করে। দুজনই পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আটককৃতরা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হামলার চেষ্টা করেছে বলে স্বীকার করেছে।
ঘটনার সময় মেয়র জোহরান মামদানি ও তাঁর স্ত্রী রামা দুওয়াজি বাসভবনে ছিলেন না। এক বিবৃতিতে মেয়র এই ঘটনাকে ‘বিদ্বেষপ্রসূত’ ও ‘নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করে বলেন, সহিংসতা কখনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।
এদিকে ক্যাথি হোচুল জানান, তিনি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করে, তবে ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে।
বর্তমানে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর জয়েন্ট টেররিজম টাস্ক ফোর্স এবং নিউইয়র্ক পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। মেয়রের বাসভবনের আশপাশ থেকে একটি সন্দেহজনক গাড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং সেখান থেকেও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের কয়েকটি ভবন থেকে বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিস্ফোরক নিক্ষেপকারী এবং বিক্ষোভের সময় ট্রাফিক বিঘ্ন ঘটানো কয়েকজনও রয়েছে।



