নেপালে ওলিকে ইতিহাস গড়ে হারালেন বালেন্দ্র, নিরঙ্কুশ জয়ের পথে তাঁর দল

নেপালে গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নজর ছিল ঝাপা–৫ আসনের দিকে। এই আসনে মুখোমুখি হয়েছিলেন জেন–জি আন্দোলনের জনপ্রিয় নেতা বালেন্দ্র শাহ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের জেন–জি আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন ওলি। শেষ পর্যন্ত এই আসনে তাকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ।
নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, ঝাপা–৫ আসনের এই লড়াইটি ছিল মূলত পুরোনো রাজনীতি বনাম নতুন প্রজন্মের রাজনীতির প্রতীক। একদিকে সত্তরের কোঠায় থাকা অভিজ্ঞ সাবেক প্রধানমন্ত্রী, অন্যদিকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ নেতা শাহ। ২০২৫ সালের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর দুই নেতার সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। সেই আন্দোলনের সময় ওলির সরকারের বিরুদ্ধে ৭৭ জন নিরস্ত্র মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনের আগে শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ওলির সঙ্গে কোনো বিতর্কে অংশ নেবেন না, কারণ তিনি একজন ‘খুনির’ সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়াতে চান না।
নির্বাচনের আগে অনেকে ধারণা করেছিলেন লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে ৫ মার্চ মধ্যরাতের পর ভোট গণনা শুরু হতেই চিত্র বদলে যায়। শুরু থেকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে যান শাহ। গত শনিবার সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা হলে দেখা যায়, তিনি ৪৯ হাজার ৬১৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন—যা নেপালের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধান। শাহ পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩৪৮ ভোট, আর ওলি পেয়েছেন মাত্র ১৮ হাজার ৭৩৪ ভোট।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য এই ফল ছিল বেশ হতাশাজনক। কারণ ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে একই আসন থেকে তিনি পেয়েছিলেন ৫২ হাজার ৩১৯ ভোট। নতুন ফলাফলে ধারণা করা হচ্ছে, শাহই হতে পারেন নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। কারণ তার দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দলটি দুই–তৃতীয়াংশের ‘সুপার মেজরিটি’ পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দলটি ১০৬টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং আরও ১৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
পেশায় র্যাপার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বালেন্দ্র শাহ প্রথম আলোচনায় আসেন ২০২২ সালের স্থানীয় নির্বাচনে। সে সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বড় ব্যবধানে জয় পান এবং দেশের সবচেয়ে বড় মহানগর কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের শেষ দিকে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে ‘আরএসপি ঢেউ’ তৈরির কৃতিত্ব অনেকেই বালেন্দ্র শাহকেই দিচ্ছেন। মাত্র চার বছর আগে গঠিত দলটি ফার্স্ট–পাস্ট–দ্য–পোস্ট (এফপিটিপি) পদ্ধতির ভোট গণনায় এগিয়ে ছিল। পাশাপাশি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভোটেও দলটির অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।



