
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দুটি বিষয়ে আমরা একদম আপসহীন—দুর্নীতি ও দলীয়করণ। শিক্ষা খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব চলবে না। ব্যক্তিগত জীবনে কে কী রাজনীতি করেন, সেটি বিষয় নয়; কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে কোনো পলিটিসাইজেশন আমরা হতে দেব না।”
শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, লিখিত দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে আমলে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব ‘স্ট্যান্ডিং ইস্যু’ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই দাবিতে পুনরায় আন্দোলনে নামতে না হয়।
শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, “শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। আমরা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে তাদের অবগত রেখেছি।”
কারিকুলাম সংস্কারের বিষয়ে তিনি জানান, ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম, মাদ্রাসা ও আলিয়া—সব ধারাকে একটি সাধারণ কাঠামোর (জেনারেল আমব্রেলা) আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা ধীরে ও পর্যালোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
এনটিআরসিসহ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়েও সচিবদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—এই তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাঠামোগত সাদৃশ্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া।



