
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-এর এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মো. আতাউর রহমান নামের ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১–এ সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক জানায়, প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ-বাণিজ্য ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে আতাউরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো হয়। তদন্তে তার ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তার নামে থাকা কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে ১৮৯টি লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনে ৫০ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণের তথ্য রয়েছে, যার বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমেও বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের হিসাব ব্যবহার করেও ঘুষের অর্থ আদান–প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ আয়ের টাকায় ঢাকায় নিজের ও পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ি কেনার তথ্যও পেয়েছে দুদক।
পিএসসির একটি সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আতাউর রহমানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
দুদকের তথ্যমতে, আতাউর রহমান সাবেক পিএসসি সদস্য শেখ আলতাফ আলীসহ একাধিক সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এর আগে প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয় এবং তদন্তে তার বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে আসে।
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ–এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।



