৩ বছরের শিশুসহ ৩৩ নাবালককে অমানবিক যৌ/ন নি/র্যা/তন, ভারতীয় দম্পতির মৃ/ত্যুদণ্ড

ভারতের উত্তর প্রদেশ-এর বান্দা জেলায় শিশুদের ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিশেষ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রামভবন ও তার স্ত্রী দুর্গাবতী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আদালত ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি) এবং শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো)-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
রায়ে বলা হয়, অপরাধের ব্যাপকতা, নির্মমতা এবং ভুক্তভোগী শিশুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় মামলাটি ‘রেয়ারেস্ট অব দ্য রেয়ার’ বা বিরলতম শ্রেণিতে পড়ে। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্তরা দীর্ঘ এক দশক ধরে পরিকল্পিতভাবে শিশুদের যৌন নির্যাতন ও শোষণ করেছে।
এ মামলার তদন্ত করে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। সংস্থাটি জানায়, আদালত প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের বাড়ি থেকে জব্দ করা নগদ অর্থ সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ শিশুদের চিকিৎসা, মানসিক পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনরুদ্ধারে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে।
তদন্ত অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বান্দা ও চিত্রকূট জেলায় অন্তত ৩৩ জন নাবালক ছেলেকে গুরুতর যৌন নির্যাতন করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। অনেককে গুরুতর শারীরিক আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং অধিকাংশই এখনো মানসিক ট্রমায় ভুগছে।
আদালতে প্রমাণিত হয়, রামভবন—যিনি রাজ্য সেচ বিভাগে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন—ও তার স্ত্রী শিশুদের প্রলুব্ধ করতে টাকা, উপহার ও অনলাইন গেমের সুযোগ ব্যবহার করতেন। বিশ্বাস অর্জনের পর তাদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন চালানো হতো এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।
আদালত মন্তব্য করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বহু বছর ধরে চলা সুপরিকল্পিত অপরাধচক্রের অংশ। এ রায়ের মাধ্যমে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে।



