
ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা অপরিহার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকেও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং বাঙালির মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ভাষা মানুষের পরিচয়, অনুভূতি ও চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অধিকার আদায়ে বাঙালিকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে—ইতিহাস তা প্রমাণ করে।
দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব গ্রহণ একটি বড় অর্জন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ভিত্তি দুর্বল হলে উন্নয়ন টেকসই হয় না। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি—কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিস্টেন্সি। পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী করা, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা এবং সারা দেশে শিক্ষার মানে সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাধারার মধ্যে মানগত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞান ভাষার মধ্য দিয়েই বিকশিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষা ও গণিতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনায় টাস্কফোর্স গঠনের কথাও জানান তিনি। তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ধাপে ধাপে চালু করা হবে, তবে তার আগে বাংলা ভাষায় দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দেন।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন।



