
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আলোচিত ড. খলিলুর রহমানকে এবার বিএনপি সরকার গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। এই নিয়োগে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতো বিএনপির নেতাকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করছে, আর বিএনপির ভেতরেও অনানুষ্ঠানিকভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য না করলেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বলেছেন, বর্তমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন পেশাদার ও দক্ষ কূটনীতিকের প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও প্রতিবেশী ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, ড. খলিলুর রহমানের পেশাগত দক্ষতা ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাই তাকে এই দায়িত্বে আনার ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়েছে।
অন্যদিকে, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। তারা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচন ইস্যুতে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, সেখানে ড. খলিলুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। গত বছরের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা আসে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই সময় থেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
এছাড়া ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন খলিলুর রহমান। তখন থেকেই বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারে থাকাকালীন সময়েও তিনি নির্বাচন আয়োজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির অনুকূলে ভূমিকা রেখেছেন—এমন একটি ধারণা দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ চলছে।



