
রোজার প্রথম দিনেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার-এ জমে উঠেছে ইফতারসামগ্রীর বাজার। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই চকবাজার সার্কুলার রোডজুড়ে দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। নানান পদের ইফতারি সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা, আর দূর থেকেই ভেসে আসছে কাবাব, হালিম ও মসলার ঘ্রাণ। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতাদের মুখে শোনা যায় ঐতিহ্যবাহী হাঁকডাক—“বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী-গরিব সবাই খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়।” প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই ইফতার বাজারে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন বিশেষ স্বাদের ইফতার কিনতে।
চকের ইফতারসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মুসাল্লম, বটি কাবাব, টিকাকাবাব, কোফতা, শিক কাবাব, সুতিকাবাব, কোয়েল ও কবুতরের রোস্ট, হালিম, সমুচা, নিমকপারা, দইবড়া, বিভিন্ন ধরনের জিলাপি ও হালুয়া, লাবাং, কাশ্মীরি ও ইরানি শরবতসহ প্রায় শতাধিক পদ। দামও তুলনামূলকভাবে চড়া—কিছু কাবাব কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। হালিম পরিমাণভেদে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা, শিক কাবাব ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, কাঠি কাবাব ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া আলু চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, সিঙ্গারা ও সমুচা ৫ থেকে ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শাহি জিলাপি, রসমালাই ও দই কেজি ৩৫০ টাকা, দুধসর ৪৫০ টাকা এবং জাফরান শরবত লিটারপ্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক দোকানে খাবার খোলা অবস্থায় বিক্রি হতে দেখা গেছে এবং অনেক বিক্রয়কর্মীর মাথায় ক্যাপ বা হাতে গ্লাভস নেই। বিক্রেতাদের দাবি, খাবার দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় বলে দীর্ঘ সময় ঢেকে রাখার প্রয়োজন পড়ে না। তবুও ঐতিহ্য, স্বাদ ও উৎসবের আমেজ মিলিয়ে রমজানের শুরুতেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে চকবাজারের ইফতার বাজার।



