ইরানে গুপ্তচরবৃত্তি! ব্রিটিশ দম্পতির ১০ বছরের কারাদণ্ড

ইরান সফরের সময় গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্রিটিশ দম্পতিকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে।
লিন্ডসে ফোরম্যান ও ক্যারাইগ ফোরম্যান বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে মোটরসাইকেলে ইরান অতিক্রম করছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়, যদিও তারা তা অস্বীকার করেছেন।
তাদের তেহরানের কুখ্যাত Evin Prison-এ আলাদা সেলে রাখা হয়েছে। এই কারাগার রাজনৈতিক বন্দিদের আটকে রাখার জন্য পরিচিত এবং সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Yvette কুপার এ রায়কে ভয়াবহ ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। লিন্ডসের ছেলে জো বেনেট দাবি করেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ কখনোই গুপ্তচরবৃত্তির কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি এবং ব্রিটিশ সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরানের বিপ্লবী আদালতের ১৫ নম্বর শাখায় বিচারক এ সাজা ঘোষণা করেন। গত অক্টোবরে তিন ঘণ্টাব্যাপী এক শুনানিতে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগও দেওয়া হয়নি।
পরিবার আরও জানায়, ৫০ বছরের বেশি বয়সী এই দম্পতি ১৩ মাস ধরে কঠিন পরিবেশে আটক রয়েছেন। কারাগারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সহিংসতা এবং ওজন হ্রাসের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী বা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বহু ব্যক্তিকে গুপ্তচরবৃত্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে এসব বন্দিকে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ব্রিটিশ দম্পতিকেও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।



