
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০০৬ সালে জেলা যুগ্ম জজের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দলে যোগদানের পর তিনি প্রথমে রাঙামাটি জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। পরে ২০১০ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি-২৯৯ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
রাঙামাটি পৌরসভার কলেজগেট (মন্ত্রীপাড়া) এলাকার বাসিন্দা দীপেন দেওয়ান মৃত সুবিমল দেওয়ান ও মোহিনী দেওয়ানের সন্তান। তিনি এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে ১৯৮০-৮১ সেশনে অষ্টম ব্যাচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরে সপ্তম বিসিএসের মাধ্যমে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিয়ে চাঁদপুর জেলার যুগ্ম জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা ছাত্রজীবন থেকেই। রাঙামাটি সরকারি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠালগ্নে সংগঠক হিসেবে যুক্ত হন। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর মন্ত্রী পদমর্যাদার উপজাতীয় বিষয়ক উপদেষ্টা এবং রাঙামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি। পারিবারিকভাবে বিএনপির আদর্শে বেড়ে ওঠা দীপেন দেওয়ান দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
২০০৬ সালে বাতিল হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রাঙামাটি-২৯৯ আসনে মনোনয়ন পেলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আইনি জটিলতায় প্রার্থী হতে পারেননি; সে সময় তার সহধর্মিণী মৈত্রী চাকমা দলীয় মনোনয়ন পান। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক মাঠে সক্রিয় রাজনীতি করার পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে এখন তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।



