খাবার কিনতে ঋণ করছেন মেসির দেশের জনগণ

ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি-এর দেশ আর্জেন্টিনা চরম অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত, যার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
বর্তমানে দেশটির নাগরিকরা খাবার, ওষুধের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছেন, ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করছেন বা ক্রেডিট কার্ডের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। বুয়েনস আইরেসের গ্র্যান্ড ইনস্টিটিউট-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মানুষ সঞ্চয় ভেঙে বা ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। বিক্রেতা দিয়েগো নাকাশিওর জানান, মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই বেতন শেষ হয়ে যায়, এবং বাকি সময় খাদ্য খরচ মেটাতে তারা ছোট ঋণ বা বাড়তি কাজের ওপর নির্ভর করতে হয়।
প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে অর্থনীতিতে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ ও ২০২৭ সালে আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং ও কৃষি খাতে কিছু প্রবৃদ্ধি থাকলেও উৎপাদন ও খুচরা বিক্রয় খাতে বড় ধস নেমেছে। স্বাধীন খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মানুষের খাদ্যদ্রব্য ক্রয় ১২.৫% কমেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম মুদ্রাস্ফীতির হারকে অনেক ছাড়িয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করেছে।
অর্থনৈতিক সংকট আর্জেন্টিনাকে বিপজ্জনক ঋণচক্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশটির ১১% ব্যক্তিগত ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে, যা ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ। অনেকে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক বা উচ্চ সুদের ঋণদাতার কাছে যাচ্ছেন। স্কুল শিক্ষক ভেরোনিকা মালফিতানো পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে পাইকারি দরে পণ্য কিনছেন এবং ক্রেডিট কার্ডের ন্যূনতম পাওনা পরিশোধ করছেন। প্রায় অর্ধেক সুপারমার্কেট কেনাকাটা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে হচ্ছে, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড।
অর্থনীতিবিদ লুসিয়া ক্যাভালেরো মনে করেন, ঋণ বা কিস্তি সুবিধা দিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। কাঠামোগত পরিবর্তন এবং মজুরি বৃদ্ধির প্রয়োজন, যাতে নিত্যপণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে। রাজনৈতিক দলগুলো ঋণের বোঝা কমাতে নতুন বিল প্রস্তাব করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় না কমালে ঋণচক্র থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।
সূত্র: আল জাজিরা।



