
সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পন্ন হওয়ার আগে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবন-এ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
আমীর খসরু জানান, রাষ্ট্র পরিচালনা ও সংসদীয় কার্যক্রম বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই চলতে হবে। সংবিধানের বিদ্যমান কাঠামোয় সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের কোনো বিধান নেই। তাই সংবিধান সংশোধনের আগে এ ধরনের শপথ নেওয়া সম্ভব নয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হলে কিছুটা নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত শপথের প্রস্তুতি থাকলেও বিএনপি তাতে আপত্তি জানায়।
দলের নীতিনির্ধারক সালাহউদ্দিন আহমদ সভার শুরুতে ঘোষণা দেন যে, তারা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নেবেন। তিনি যুক্তি দেন, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে এ ধরনের কোনো শপথের ফরম বা বিধান নেই। গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে পরিষদ গঠিত হলে আগে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং কে শপথ পড়াবেন—সে বিধানও নির্ধারণ করতে হবে।
এদিকে বিএনপি শপথ না নিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ নেবে না—এমন ঘোষণার প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে সংসদে শপথ নেওয়া জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশেই বিএনপি সংবিধান মেনে চলার নীতিগত অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বিএনপির এ অবস্থানের ফলে শপথ অনুষ্ঠানে কিছুটা ছন্দপতন দেখা যায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন প্রথমে বিএনপির এমপিদের শপথ পড়ানোর পর পরবর্তী কার্যক্রম সাময়িকভাবে থেমে যায়। দুপুর পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু করা যায়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা একাধিক দফায় আলোচনা করলেও জোটের অবস্থান অনড় থাকায় সংসদের প্রথম দিনেই এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকেলের মূল শপথ অনুষ্ঠানের আগেই সংকটের সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।



