
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার আকার, কাঠামো ও সম্ভাব্য সদস্যদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভা ক্ষমতাচ্যুত সরকারের তুলনায় আকারে ‘অনেকটাই ছোট’ হতে পারে। বর্তমানে সরকারের ৪৩টি মন্ত্রণালয় থাকলেও তা কমিয়ে ৩০-এর নিচে নামানোর চিন্তা করছে বিএনপি। একই খাতে কাজ করা মন্ত্রণালয়গুলো একীভূত করা এবং অতীতে বিভক্ত করা কিছু মন্ত্রণালয়কে আগের কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয়কে এক ছাতার নিচে আনার সম্ভাবনার কথা আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে। প্রায় দুই ডজন পূর্ণমন্ত্রী এবং এক ডজনের মতো প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাখা হতে পারে। নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
শপথ ও আনুষ্ঠানিকতা
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।
সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সদস্যদের আলোচনা
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাসসহ একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
নারী নেতৃত্বের মধ্যে সেলিমা রহমান ও শামা ওবায়েদের নামও ঘুরছে। তরুণদের মধ্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ইশরাক হোসেনের নাম প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
মিত্র দল থেকে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, আলোচনায় অনেক নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন—তা স্পষ্ট হবে আগামী মঙ্গলবারের শপথ অনুষ্ঠানের পরই।



