Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশসরকার

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ নেতা বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে দলীয়ভাবে আগেই জানানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলেও ঘোষণা রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিজয়ী সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ নেবেন। একই দিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার শপথ পাঠ করান—তাই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনের পর তিনি দলীয় চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি সাংবিধানিক এই পদে শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এই নেতা পরবর্তীতে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের জন্য পরিচিতি পান।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আরও রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি নির্বাচনে অংশ না নিলেও দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত এবং একসময় কুয়েতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। আরও যাদের নাম আলোচনায় এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খান, আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী।

নতুন মন্ত্রিসভার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শপথ ও সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় সংবিধানসম্মত ধাপ অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত সময় মেনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button