
হুইলচেয়ারে বসেই ভোটকেন্দ্রে পৌঁছালেন নূর মিয়া (৫৫)। লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার এই বাসিন্দা শারীরিকভাবে হাঁটাচলায় অক্ষম। তবু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে নাগরিক দায়িত্ব পালনে পিছিয়ে থাকেননি। স্ত্রী মাইমুনা বেগম (৪৫) নিজ হাতে হুইলচেয়ার ঠেলে তাকে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চরগাজী ইউনিয়নের বড়খেরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ধীরে ধীরে স্বামীকে নিয়ে এগোচ্ছেন মাইমুনা। দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে দুজনের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির ছাপ।
প্রায় দেড় যুগ পর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। নূর মিয়া জানান, অতীতে বহুবার কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি। প্রতিবারই শুনেছেন, তার ভোট নাকি আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। এতে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, “এবার কোনো বাধা ছাড়াই নিজের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে পেরেছি। এত বছর পর নিজের হাতে ব্যালটে সিল মারতে পেরে যে আনন্দ লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
মাইমুনা বেগম জানান, তারা পারিবারিকভাবে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রতি তাদের সমর্থন অটুট ছিল। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
নূর মিয়ার এই আগ্রহ ও দৃঢ়তা কেন্দ্রে উপস্থিত অন্য ভোটারদেরও নাড়া দেয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও তাকে সহায়তা করেন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা প্রভাষক আসিফ মাহমুদ রায়হান জানান, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোট দিতে পারার এই মুহূর্ত নূর মিয়া ও মাইমুনা বেগমের কাছে শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং বহুদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের দিন।



