
জামায়াতে ইসলামী কোনো অবস্থাতেই ভোটের মাঠ ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ১২টি নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া ওই আসনে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রলোভনের লিফলেট ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াতের এক জেলা নেতাকে টাকাসহ আটকের ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন। তার দাবি, ওই অর্থ ব্যবসায়িক কাজে বহন করা হচ্ছিল এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ছিল না। তাকে অযথা হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানান।
কুমিল্লা-৪ আসনে এক রাজনৈতিক নেতার হুমকির প্রসঙ্গ টেনে মাহবুব জুবায়ের বলেন, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর মতো বক্তব্য কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি দিতে পারেন না। এ ধরনের উসকানির কারণে সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে কেউ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করলে তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কিছু আসনে অতিরিক্ত এবং কিছু আসনে কম ব্যবহারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার কথা জানিয়ে মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই জামায়াত পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে।



