Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
খেলাধুলা

হুমকিতে ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন

সাম্প্রতিক এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবি আইসিসি নাকচ করে দিলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি কেবল ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর মতে, এর জেরে ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে সরাসরি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে বিসিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড)। আইসিসি নিজেকে স্বাধীন সংস্থা দাবি করলেও, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে বারবার ভারতীয় লবিংয়ের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে,
আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহ, যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র।
এবং প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় গুপ্ত, যিনি আগে ভারতীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘জিওস্টার’-এর নেতৃত্বে ছিলেন।

২০২৪ বিশ্বকাপে ভারতকে সুবিধা দিতে গায়ানায় সেমিফাইনাল আয়োজনের বিষয়টিও আইসিসির পক্ষপাতমূলক আচরণের উদাহরণ হিসেবে টানা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি (IOC) তাদের অলিম্পিক সনদ এবং ধারা ৫০.২ অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর। তাদের মূলনীতি হলো—ক্রীড়া সংস্থাকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত হতে হবে এবং সেখানে কোনো রাজনৈতিক বা সরকারি হস্তক্ষেপ চলবে না।

ইতিহাস বলছে, আইওসি এসব ব্যাপারে কোনো আপস করে না। এর আগে রাজনৈতিক কারণে ইসরায়েল দলকে ভিসা না দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়াকে ভবিষ্যতে অলিম্পিক আয়োজনের দৌড় থেকে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও যদি প্রমাণিত হয় যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোনো রাষ্ট্রকে (বাংলাদেশ) টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে আইওসি কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

ভারত ২০৩৬ সালে আহমেদাবাদে অলিম্পিক আয়োজনের জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার। যদিও ভারতের বিশাল বাজার ধরার লক্ষ্যে আইওসি ক্রিকেটকে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবুও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্নে তারা ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে। শুধু অলিম্পিক নয়, ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের ক্ষেত্রেও এই ইস্যুটি ভারতের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button