Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
অন্তর্বর্তী সরকারপরিবেশবাংলাদেশ

পুলিশ যদি উদ্যোগী হয় তাহলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব: পরিবেশ উপদেষ্টা

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর যৌথ উদ্যোগে ‘হর্নের বিরুদ্ধে মোটর শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫ এ ট্রাফিক পুলিশকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, কাজেই পুলিশ যদি উদ্যোগী হয় তাহলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ শনিবার সকাল ১১.০০ টায় শোভাযাত্রাটি মানিক মিয়া এভিনিউ (সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজা) থেকে শুরু করে ফার্মগেট-কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা ঘুরে বিজয় স্মরণী হয়ে বিমান সিগনাল দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর  সদর দপ্তর, আগারগাঁও গিয়ে শেষ হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে কাজ করলে পরিবেশ দূষণ রোধ করা সহজ হবে। আজকে হর্নের বিরুদ্ধে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে যৌথভাবে কাজটি শুরু করা হলো আশা করা যায় এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫ এ ট্রাফিক পুলিশকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, কাজেই পুলিশ যদি উদ্যোগী হয় তাহলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আজকের এই শোভাযাত্রা থেকে শব্দদূষণের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষকরে ড্রাইভারদেরকে যে ম্যাসেজটা আমরা দিতে চাই তাহলো, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, সবাই মিলিই পরিবেশটাকে ঠিক করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ কামরুজ্জামান এনডিসি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন যেন কোন অবস্থাতেই আমদানী না করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ এ ট্রাফিক পুলিশকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করার পর থেকে ডিএমপির ট্রাফিক সার্জেন্টরা জরিমানা শুরু করেছে এবং এটা আরও জোরদার করা হবে। শব্দদূষণের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ডিএমপি একসাথে কাজ করবে বলেও তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সুসজ্জিত মোটর বাইক, পুলিশের পিকআপ গাড়ি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সুসজ্জিত গাড়ি যখন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তখন সড়কের দুইপাশের মানুষজন করতালির মাধ্যমে শোভাযাত্রাকে সাধুবাদ জানায়। পথচারীদের অনেকেই বলেন শব্দদূষণ দিনদিন যেভাবে বাড়ছে, সবাই মিলে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

উল্লেখ্য যে, পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প”এর আয়োজনে গত ৫ জানুয়ারি থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১০ দিন মোবাইল কোর্ট ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে যা আজ মোটরশোভা যাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হলো। এই ক্যাম্পেইন পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন গ্রীণ ভয়েস’র তরুণ স্বেচ্চাসেবী শিক্ষার্থীবৃন্দ।

শোভাযাত্রায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ কামরুজ্জামান এনডিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মোঃ সরওয়ার, বিপিএম-সেবা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ। এছাড়াও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ পরিচালমেক ও কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button