Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশঢালিউডবিনোদন

হৃদয় জিতে নিয়েছে যে সিনেমা, অভিভূত আফজাল হোসেন

খুব বেশী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি, যে গুটি কয়েক সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে- সেখানেও দর্শক যে উপচে পড়েছে তাও নয়! তবে যারাই সিনেমাটি দেখতে গেছেন- তারা প্রত্যেকেই মুগ্ধতা নিয়ে ফিরেছেন!

বলছি ১৪ নভেম্বর সারাদেশের ৬টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া তরুণ নির্মাতা তাওকীর ইসলাম পরিচালিত ‘দেলুপি’র কথা! সিনেমাটি মুক্তির প্রায় দশ দিন পর এবার নতুন করে আলোচনায় গুণী অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেনের অভূতপূর্ব প্রশংসায়!

সম্প্রতি তিনি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখেছেন ‘দেলুপি সিনেমাটি। দেখে তিনি ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখেছেন, যেখানে উঠে এসেছে চলচ্চিত্রটির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা, বিস্ময় এবং নির্মাতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

‘দেলুপি’ দেখে আফজাল হোসেন লিখেছেন,“চমকে দেবার মতো অতি চমৎকার একটা চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে… মুখে মুখে ভূয়সী প্রশংসা শুনে অনেকেই দেখতে যাচ্ছেন, দর্শকের ভিড় বাড়ছে—এটাই বড় সুখের খবর।”

তিনি বলেন, হয়তো ভাববেন, একটা ভালো সিনেমা মুক্তি পেলো, অথচ জানতেই পারলাম না। অত অবাক হবেন না। সব ভালো ঘটনা, বিষয় মানুষের সামনে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয় না- এটা জানা কথা। যদি দেশের সব ভালোকে প্রাণখুলে দায়িত্বশীল মানুষেরা ভালো বলবে, এ রীতি থাকতো, তাহলে এতরকম মন্দে গলা পর্যন্ত ডুবে থাকতে হতো না আমাদের।

তাঁর ভাষায়,“আমরা নয়জন একসাথে দেলুপি দেখতে গিয়েছিলাম। দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল আমরা যেন সেই গ্রামেরই মানুষ।”

আফজাল হোসেনের মতে ‘দেলুপি’র সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এর সততা ও সরলতা। তিনি বলেন,“নির্মাতা কোথাও নিজেকে জাহির করতে চাননি। তিনি ভাবেননি দর্শককে চমকাতে হবে, বা সফল হওয়ার ফর্মুলা মেলাতে হবে। তাই পুরো ছবিজুড়ে মানুষের প্রতি তার সম্মান স্পষ্ট।”

তিনি তুলনা টেনেছেন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ভারতীয় নির্মাতা রিমা দাসের দুই চলচ্চিত্র—‘ভিলেজ রকস্টার’ ও ‘বুলবুল ক্যান সিং’-এর সহজিয়া গল্প বলার ধরণের সঙ্গে। তাঁর মতে, ‘দেলুপি’ সেই ধারারই এক সাহসী ও নির্মল উদাহরণ। তিনি বলেন,“চলচ্চিত্রটির কোনো দৃশ্যই সিনেমা সিনেমা মনে হয়নি—মনে হয়েছে রক্তমাংসের মানুষ দেখছি।”

রাজনীতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত তবু নেই ঘৃণা বা পক্ষপাত। ‘দেলুপি’র রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও প্রশংসা করেন আফজাল হোসেন। “রাজনীতির চক্করে গ্রামবাসীর অসহায়ত্ব দেখানো হলেও কোনো ঘৃণা নেই, অপমান নেই। নির্মাতা বিচারকের আসনে বসেননি, মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখা হয়েছে।”

চলচ্চিত্রের সব অভিনেতা খুলনার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা। তবুও তাঁদের অভিনয়ে বিস্মিত হয়েছেন এই গুণী শিল্পী-“অসাধারণ চরিত্রগুলোয় চেনা পরিচিত, নামী দামী কোনো অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেননি। দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, তাতে ভালোই হয়েছে। অভিনয় দেখতে হয়নি, ছবিজুড়ে চরিত্রগুলো প্রকৃত হয়েই টিকে ছিল। যাদের কোনদিন পর্দায়, অভিনয়ে দেখা যায়নি, তাঁরা প্রত‍্যেকেই মুহূর্তে মুহূর্তে বিস্ময় ছড়িয়েছেন।”

নির্মাতা তাওকীর ইসলামের সাহস ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, “নির্মাতা তাওকীর ইসলাম সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা নেই, তবে এ সিনেমাটা বানানোর জন্য যে পরিমাণ সাহস দরকার, তা তাঁর আছে এবং যেমন নিষ্ঠার সাথে তিনি বানিয়েছেন, দেখে সালাম ঠুকতে হয়। তিনি কৃতিত্বও ভাগাভাগি করেছেন, জানান দেন, আমি একা নই সাথে ছিল আমার দল। একত্রে ছবিটা বানানো হয়েছে ‘দেলুপি’। সালামের পর মনে হয়েছে কুর্নিশও প্রাপ্য।”

চলচ্চিত্রের একটি সংলাপ “একই দৃশ্য, একই সীন” তাঁর কাছে দাঁড়িয়েছে পুরো দেশের বাস্তবতার রূপক হিসেবে। তিনি বলেন,“তাওকীরের সিনেমার সেরা একটা সংলাপ ‘একই দৃশ্য, একই সিন’। মাত্র একটা সংলাপে তিনি পুরো দেশ ও মানুষদের বর্ণনা করেছেন। শতভাগ সত‍্য কথা ‘এক দৃশ‍্য, একই সীন’ কিন্তু তাওকীর ইসলাম, আপনি ও আপনার কর্ম মোটেও ‘এক দৃশ‍্য, একই সিন’ নয়। আপনি অসময়ে ‘সময়ের মানুষ’। অভিনন্দন ও অভিবাদন আপনাকে।”

শেষে আফজাল হোসেনের সতর্কবার্তা, “প্রিয় সিনেমাপ্রেমিক মানুষেরা, “দেলুপি” দেখতে দেরি হলে লোকসান হয়ে যাবে।” কারণ তিনি মনে করেন, “যখন জানবেন, দেখার ইচ্ছা হবে— তখন হয়তো দেরি হয়ে যাবে, ছবিঘর থেকে দেলুপি নেমে গেছে।”

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button