
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের যে সংলাপ চলছে, তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী অন্যতম প্রধান দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে। দলটি বলেছে, ‘প্রধান উপদেষ্টার আদেশের’ মাধ্যমে জুলাই সনদকে অবিলম্বে আইনি রূপ দিতে হবে এবং এই সনদের নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগেই পাস করতে হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নেতারা এই সুস্পষ্ট দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে, গণভোটের সময়সূচি নিয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রস্তাবেরও কড়া সমালোচনা করেছে জামায়াত। এই ঘটনা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্যকে প্রকাশ্যে নিয়ে এলো।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠক শেষে ডা. তাহের সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই সনদের আইনি রূপ দেওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি।
তারা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন যে, এই সনদকে কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে রাখলে চলবে না, বরং প্রধান উপদেষ্টার একটি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এটিকে একটি আইনগত ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হবে, যাতে এর বাস্তবায়ন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। জামায়াত মনে করে, সংবিধান সংস্কার বা গণপরিষদ নির্বাচনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য এমন একটি আইনি সুরক্ষা অপরিহার্য।
এই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল গণভোট নিয়ে জামায়াতের অবস্থান। ডা. তাহের বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট চেয়ে জটিলতা তৈরি করছে বিএনপি।’ তিনি বিএনপির এই প্রস্তাবকে অবাস্তব বলে মনে করেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট সময় দেওয়া প্রয়োজন।
তাই জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের আয়োজন না করে, বরং আগামী নভেম্বর মাসেই এই গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে। জামায়াত মনে করে, নভেম্বরে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়টি নির্বাচনের আগেই চূড়ান্ত রূপ পাবে, যা নির্বাচন কমিশনের কাজকে সহজ করবে এবং ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন একটি পরিষ্কার সাংবিধানিক ভিত্তির ওপর অনুষ্ঠিত হতে পারবে।



