Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশবিএনপিরাজনীতি

‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ কর্মসূচি তিস্তা পাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলবে

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আগামীকাল থেকে তিস্তা পাড়ের ১৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ শীর্ষক ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলার তিস্তা রেলওয়ে সেতু সংলগ্ন চরে সোমবার সকাল ১১ টার দিকে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সমাপনী কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৪৮ ঘন্টার কর্মসূচিতে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকবেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, রংপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তিস্তা নদী পাড়ের মানুষের এক সময় গোলা ভরা ধান ছিল, গোয়াল ভরা গরু ছিল, মুখে ছিলো ভাওয়াইয়া গান। তিস্তাপাড়ের মানুষ এক সময় আনন্দের দিন কাটাতো। তিস্তা নদী ছিল আমাদের মায়ের মতো, সেই তিস্তা নদী এখন শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে রাখে, আর বর্ষা মৌসুমে বিনা কারণে পানি ছেড়ে দেয়। এর ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়ে লক্ষ লক্ষ পরিবারের বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে যায়। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিঃস্ব হয়ে যায়। যে তিস্তা মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র ভরসা ছিল, সেই তিস্তা এখন আমাদের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পূর্ববর্তী সরকারের অবহেলার সমালোচনা করে দুলু বলেন, বিগত সরকার তিস্তাপাড়ের মানুষের সাথে শুধু প্রতারণাই করেনি, পরিহাসও করেছে। আমরা মাঝে মাঝেই শুনেছি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে কিন্তু বাস্তবে সেটা কিছুই হয়নি। আমরা এটাও জানি, আমাদের বন্ধু পার্শ্ববর্তী দেশ চীন এখানে অর্থায়ন করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, একটি স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কিন্তু সেটি আলোর মুখ দেখতে পায়নি।

বিএনপি’র এই প্রবীণ নেতা অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাই এই তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে নদীর ন্যায্য পানি বন্টন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে আমরা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আর এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে তিস্তা তীরবর্তী ৫টি জেলার মানুষ।

তিনি বলেন, ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ কর্মসূচি তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘ প্রত্যাশার কথা বলবে। তাদের দু:খ-দুর্দশা ও জীবন-জীবিকার কথা বলবে।

রংপুরের কাউনিয়ার তিস্তাপারের বাসিন্দা ও তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি প্রকল্প ছিল। এটিতে চীন অর্থায়ন করতে চেয়েছিল। এর আওতায় ছিল নদী শাসন, স্যাটেলাইট শহর, হাউজিং ও ইকোনোমিক্যাল জোন নির্মাণ। এটি পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার কথাও ছিল। ২০১৬ সালে এর সমীক্ষাও হয়েছিল। কিন্তু ভারতের আপত্তির কারণে বাস্তবায়ন হয়নি।

‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে তিস্তা নদীর কাউনিয়া সেতু, মহিপুর সেতু এবং তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টসহ লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারীসহ পাঁচ জেলার ১১ পয়েন্টে তাঁবু খাটিয়ে একই সময়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন কাহিনি অর্থাৎ তাদের আনন্দ-বেদনার বিষয়গুলো নাটক ও সংগীতের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী তুলে ধরা হবে, যা মানুষকে সংগঠিত করবে।

উত্তরের জীবন রেখা তিস্তা। এই তিস্তায় নির্ভরশীল এই অঞ্চলের কোটি মানুষ। কিন্তু বর্তমান এই তিস্তায় হাটু পানি জলধারায় সীমাবদ্ধ। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সরকার, নেতা পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয় না তিস্তাপাড়ের মানুষের ভাগ্য। বর্ষায় অল্প পানিতে বন্যা, নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব। আবার খরায় পানি স্বল্পতায় চাষাবাদ ব্যহত হয় তিস্তার লাখ লাখ কৃষকের। তিস্তা নদীর এই পরিস্থিতি উত্তরণে দীর্ঘদিন ধরে দাবি উপস্থাপিত হলেও নদী শাসন বা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি কেউ।

ভারতের উত্তর সিকিম থেকে উৎপত্তি হওয়া তিস্তা বাংলাদেশের নীলফামারী হয়ে চিলমারীর ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়েছে। মোট ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তার ১১৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে বাংলাদেশ অংশে। ১৯৯৮ সালে প্রতিবেশী ভারত তাদের অংশে গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে একতরফা পানি প্রত্যাহার শুরু করে। এর পর থেকে তিস্তার পানিতে সমান অধিকার থাকলেও পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশ অংশে সৃষ্টি হয় তিস্তার নাব্যতা সংকট। ফলে বর্ষায় অল্প পানিতেই বন্যার দেখা দেয়। দুকুল ছাপিয়ে পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে, দুর্ভোগে পড়ে নদীর দুই তীরের অন্তত ২০ লাখ মানুষ। বন্যার পানি কমতে থাকলে শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙ্গন। ভাঙ্গনে বিলীন হয় ফসলী জমি, বসতভিটা, নানা স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনা। প্রতিবছরই ভূমিহীন হয় হাজারো পরিবার। আবার খরায় তিস্তার পানি সংকটে ব্যহত হয় নৌচলাচল ও চাষাবাদ।

ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করায় মরতে বসেছে নদীটি। তিস্তায় সর্বশান্ত হওয়া মানুষের দীর্ঘদিনের আর্তনাদ ঘোচাতে পারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা। যা বাস্তবায়নে দীর্ঘ আন্দোলন করেছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন এবং তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদসহ একাধিক সংগঠন। অথচ এর বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন চলছে টালবাহানা। সম্প্রতি এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি আবারো জোড়ালো হয়েছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ডাকে। এরই মধ্যে মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সভা, সমাবেশ পদযাত্রা শেষ করে করেছে সংগঠনটি। দাবি আদায়ে তিস্তা চরের ১১ টি পয়েন্টে ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ৪৮ ঘন্টার লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে তারা। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন তিস্তা পারের দুঃখ দূরীকরণে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা বলেন,  রংপুরের গংগাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার ৩টি পয়েন্টে লক্ষাধিক মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে। তিস্তার কারণে এই তিনটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে। খরার সময়ও মেলে না পানি। তাই এই অঞ্চলকে বাঁচাতে হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

রংপুর জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার বাসসকে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি, এটি নিয়ে সরকার কাজ করছে ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button