রাফার রাস্তায় ইসরায়েলি ট্যাংকবহর, জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছে লাখো ফিলিস্তিনি

গাজার উত্তরাঞ্চল এবং পূর্ব রাফার আরও ভেতরে ঢুকে ট্যাংকবহর নিয়ে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল বাহিনী। মঙ্গলবার (১৪ মে) তারা রাফার দক্ষিণ সীমান্তের কয়েকটি এলাকাতেও পৌঁছায় বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় জীবন বাঁচাতে রাফা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন বাস্তচ্যুত লাখো ফিলিস্তিনি। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী নতুন আক্রমণ শুরু করার পর থেকে সাড়ে চার লাখের বেশি ফিলিস্তিনি রাফা থেকে পালিয়ে গেছে এবং আরও ১ লাখ ফিলিস্তিনি রাফাহর উত্তরে সরে গেছে।
জানা যায়, সেখানে হামাসের প্রতিরোধের মুখে দুই পক্ষেরই বন্দুকযুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। এছাড়া ইসরাইলের নিরলস বিমান হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৮২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যা শেষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ।
ইসরাইলের হামলার তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে উত্তর গাজার জাবালিয়া এবং দক্ষিণ রাফাহতে ভয়াবহ বন্দুক যুদ্ধ চলছে। হামাস এবং ইসরাইল উভয়ই বিপক্ষ সেনাদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। উত্তর গাজায় নতুন করে হামলা শুরুর ১ মাস আগে এসব এলাকাকে হামাসমুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছিল ইসরাইল। আবার সেখানে নতুন করে হামলা শুরু করায় ইসরাইলি বাহিনীর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ইসরাইলের আন্তর্জাতিক মিত্র ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইসরাইলকে রাফায় অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হচ্ছে। সতর্ক করে বলা হচ্ছে, এ ধরনের হামলায় সেখানে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে অন্তত ৫৬ শতাংশ নারী ও শিশু।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে) বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাফায় হামলা বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা অনুরোধের শুনানি নেবেন। কাতারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাফায় ইসরাইলের অভিযানের কারণে যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা আটকে গেছে।
অন্যদিকে, গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কায়রিয়াকোস মিতসোতাকিসের সঙ্গে বৈঠক শেষে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, হামাসের এক হাজারের বেশি যোদ্ধা তার দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের কর্মকাণ্ডকে একটি প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
এসময় এরদোয়ান আরও বলেছেন, গ্রিস হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে, যা আমাকে পীড়া দেয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। বাংলা টিভি



