রাফায় হামলা প্রতিরোধে নতুন পরিকল্পনা হুতির

লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীকে পরাজিত করার নতুন ঘোষণা দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।তারা জানিয়েছে, লোহিত সাগরের পর এখন ভূমধ্যসাগরেও ইসরাইলগামী জাহাজে আক্রমণ চালাবে তারা। হুতি নিয়ন্ত্রিত সাবা নিউজ এজেন্সির বরাতে আরব নিউজ বলছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে। ইসরাইলগামী কোনো জাহাজ যদি তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে থাকে তাহলে তারা সেখানে হামলা চালাবে। এক্ষেত্রে ইঙ্গ-মার্কিন জোট পাত্তাও পাবে না।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, চতুর্থ ধাপে এসে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মার্কিন, ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় নৌবহরের পাশাপাশি ইহুদিবাদী ইসরাইলের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী কতটা শক্তিশালী তা প্রদর্শন করেছে। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিও বলেছেন, ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর হামলা এখন ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। ফিলিস্তিনি রাফায় পরিকল্পিত হামলা চালালে ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগকারী সব কোম্পানির জাহাজের ওপর হামলা চালানো হবে।
শনিবার হুথিদের তথ্যমন্ত্রী দাইফ আল্লাহ আল-শামি দাবি করেন, হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র লোহিত সাগর থেকে তাদের বিমানবাহী রণতরী ও অন্যান্য নৌবাহিনীর জাহাজ প্রত্যাহারে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, আগামীতে ভূমধ্যসাগরে ইসরাইলি জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু হবে। মার্কিন বাহিনী বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মার্কিন নৌবাহিনীকে পরাজিত করেছে এবং তাদের সামরিক, ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ার এবং রণতরী আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমুদ্র থেকে পিছু হটতে শুরু করেছে।
তবে, হুতিদের হুশিয়ারি নাকচ করে দিচ্ছেন ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ভুমধ্যসাগরে জাহাজে হামলা চালাতে হুকিদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রয়োজন হবে। শুধু তাই নয় হুতিরা তাদের কর্মচারীদের বেতন ও পরিষেবাগুলো ঠিকমতো দিতে না পারায় নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে জনসাধারণের অসন্তোষ এড়াতে এমন প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
নভেম্বর থেকে হুতিরা লোহিত সাগর, বাব আল-মানদাব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক ও নৌবাহিনীর জাহাজে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি, গাজা উপত্যকায় অবরোধের অবসান ঘটাতে ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা চালানোর পর ইয়েমেনের উপকূলবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক ও নৌবাহিনীর জাহাজেও হামলা চালিয়েছে তারা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। বাংলা টিভি



